সর্বশেষ লাইভ ই-পেপার
গোল্ডেন হার্ভেস্ট বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর।
খুঁজুন
শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ২ শ্রাবণ, ১৪৩৩
লোড হচ্ছে...
নিউজ লোড হচ্ছে...
ব্রেকিং:
ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় নেতানিয়াহু।টিআইএন ও কর নিয়ে আসছে নতুন সিদ্ধান্ত।ব্যাংকের ঋণ-আমানত সুদের হার বেঁধে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকনতুন পে স্কেলে থাকছে যেসকল সুবিধা।গোল্ডেন হার্ভেস্ট বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর।পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এস এম জাহাঙ্গীর আলম।সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয় বাংলাদেশের।ছিনতাইকারীকে ঝাপটে ধরেছিলেন র‌্যাব সদস্য ইমন, বুকে ছুরকাঘাতে হত্যাসিলেটের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আলাদা নজর রয়েছে: এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীপৃথিবীর ৬টি দেশ যেখানে রাত হয় না – জানলে অবাক হবেন!নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলাবড় মুলধনী কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভূক্তির আওতায় আনা হচ্ছে।সব হারিয়েও কেন মানুষ শেয়ারবাজার ছাড়ে নামুখোমুখি রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান: উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পুরো দেশতিন দিনের রাস্ট্রীয় সফর শেষে ট্রাম্প ফিরলেন আমেরিকা।বিএসইসি‘র চেয়ারম্যান কে হতে যাচ্ছেন ?নতুন আরেকটি ওয়াসা গঠনের সিদ্ধান্ত।ত্রয়োদশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন আসন থেকে কে নির্বাচিত হলেন‘রেপ করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যায়, পরে গলাটিপে হত্যা করি’সিলেটে চলন্ত ট্রেনে আগুন আতঙ্ক!

গোল্ডেন হার্ভেস্ট বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
গোল্ডেন হার্ভেস্ট বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর।

শেয়ারবাজার প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন হারভেস্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থের ব্যবহার সংক্রান্ত নিরীক্ষিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটি রাইট শেয়ার থেকে সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ৭০ কোটি ১০ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৯ টাকা বিভিন্ন খাতে ব্যয় করেছে। অন্যদিকে অব্যবহৃত অর্থের একটি বড় অংশ স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে বিনিয়োগ করা হয়েছে, যার পরিমাণ সুদসহ ২২২ কোটি ৪৩ লাখ ৭২ হাজার ৫৫৭ টাকা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে জমা দেওয়া ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের নিরীক্ষিত রাইট ইস্যু অর্থ ব্যবহারের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাইট শেয়ারের মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ ব্যবহার করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজার সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে কোম্পানিটি। নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান কে. এম. আলম অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানি রাইট ইস্যুর অর্থ নির্ধারিত খাতেই ব্যবহার করেছে এবং এ অর্থ ব্যবহারে বিএসইসির অনুমোদনের শর্ত অনুসরণ করা হয়েছে।

চার খাতে ব্যয় ৭০ কোটি টাকার বেশি

নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাইট ইস্যুর অর্থ থেকে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ব্যাংক ঋণ পরিশোধে। এ খাতে ব্যয় করা হয়েছে ২৯ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা নির্ধারিত বরাদ্দের শতভাগ।

এছাড়া যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয়ে ব্যয় করা হয়েছে ২৮ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ৫০১ টাকা। ভূমি উন্নয়ন, সড়ক, কারখানা ভবন, ওয়্যারহাউস, বয়লার শেড, এলপিজি শেড, ডব্লিউটিপি শেডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৬৬৩ টাকা।


ইনস্টলেশন ও ইউটিলিটি সংযোগে ব্যয় হয়েছে ৮২ লাখ ১ হাজার ৩৫৮ টাকা এবং রাইট ইস্যু সংক্রান্ত খরচ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৪৮ লাখ ১৩ হাজার ৩৬৮ টাকা।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি ১০ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৯ টাকা।

প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অগ্রগতি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে ওয়্যারহাউস-১ নির্মাণের কাজ সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি অর্জন করেছে। এ খাতে বরাদ্দের প্রায় ৭৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।বাংলাদেশের অর্থনীতি

অন্যদিকে পার্কিং মেশিন (ফুড ইনগ্রেডিয়েন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট) স্থাপনে ৭৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ, পাস্তুরাইজেশন ইউনিটে ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, ট্রে উৎপাদন লাইনে ৯০ শতাংশ এবং রোটারি ওভেনে ১০০ শতাংশ বিনিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।


এছাড়া ফ্রিজার, মেটাল ডিটেক্টর, বয়লার, ইটিপি, সাব-স্টেশন, এয়ার কম্প্রেসরসহ বেশ কয়েকটি যন্ত্রপাতি ক্রয় কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

এফডিআরে রাখা অর্থের বিপরীতে ঋণ

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাইট ইস্যুর অব্যবহৃত অর্থ স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকে ৪৪টি এফডিআরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এসব এফডিআরের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২২২ কোটি ৪৩ লাখ ৭২ হাজার ৫৫৭ টাকা।

তবে কোম্পানিটি এসব এফডিআরের বিপরীতে স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকের পান্থপথ শাখা থেকে ১৯৮ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে। যা এফডিআরের মূল টাকার প্রায় ৯০ শতাংশের সমান। প্রতিবেদনের তারিখ পর্যন্ত ওই ঋণের স্থিতি ছিল ১৯৮ কোটি ১৬ লাখ ৯৩ হাজার ৩২০ টাকা।

নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণ

স্বতন্ত্র নিরীক্ষক কে. এম. আলম অ্যান্ড কোং জানিয়েছে, রাইট ইস্যুর অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোম্পানি রাইট শেয়ার অফার ডকুমেন্টে বর্ণিত উদ্দেশ্য অনুসরণ করেছে। অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র, ভাউচার ও ব্যাংক বিবরণী পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

নিরীক্ষকরা মত দিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাইট ইস্যুর অর্থ ব্যবহারের বিবরণী সব গুরুত্বপূর্ণ দিক থেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তা বিএসইসির অনুমোদনের শর্ত ও রাইট শেয়ার অফার ডকুমেন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।বাজার ডেটা পরিষেবা

বিএসইসিতে জমা দেওয়া চিঠিতে গোল্ডেন হারভেস্ট জানিয়েছে, প্রতিবেদনটির দুই স্বাক্ষরকারী পরিচালক গত ১০ দিন বিদেশে অবস্থান করায় নির্ধারিত সময়ের পরে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি।

কোম্পানি সচিব মো. ইব্রাহিম হোসাইন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত প্রান্তিকের নিরীক্ষিত রাইট ইস্যুর অর্থ ব্যবহারের প্রতিবেদন কমিশনের অনুমোদনপত্রের শর্ত অনুযায়ী জমা দেওয়া হয়েছে।

ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় নেতানিয়াহু।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় নেতানিয়াহু।

ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় নেতানিয়াহু।

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসরাইলের রাজনীতিতে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবার তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনই নির্ধারণ করতে পারে চার দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ।

দুর্নীতির একাধিক মামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে সমালোচনার কারণে নেতানিয়াহু এখন দেশ-বিদেশে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অস্তিত্বেরও বড় পরীক্ষা।

নির্বাচনের আগে তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও জটিল করে তুলেছে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত। জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। এর পরপরই তেহরান ইসরাইল, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

একই সময়ে উত্তরের সীমান্তে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে পূর্ণমাত্রার সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে ইসরাইল। ফলে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ পরিচালনার চাপে নেতানিয়াহুর সরকার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু এক ধরনের উভয়সংকটে পড়েছেন। একদিকে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের জন্য মার্কিন প্রশাসন তার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে ইসরাইলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক ইরান এবং তার আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ জনমতের এই বিপরীতমুখী অবস্থান তার জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদেশনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার আগে ও পরে গোয়েন্দা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠনে তার অস্বীকৃতি জনগণের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইসরাইলে অনেকের মতে, ৭ অক্টোবরের হামলা প্রতিরোধে সরকারের ব্যর্থতার দায় এখনো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। এর সঙ্গে দুর্নীতির মামলাগুলো যুক্ত হওয়ায় নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি আরও চাপে পড়েছে।

সব মিলিয়ে, আগামী অক্টোবরের নির্বাচন কেবল ইসরাইলের পরবর্তী সরকার নির্ধারণ করবে না; একই সঙ্গে এটি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের ভবিষ্যৎও নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

টিআইএন ও কর নিয়ে আসছে নতুন সিদ্ধান্ত।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:২৮ অপরাহ্ণ
টিআইএন ও কর নিয়ে আসছে নতুন সিদ্ধান্ত।

টিআইএন ও কর নিয়ে আসছে নতুন সিদ্ধান্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সীমিত আয়ের মানুষের করের চাপ কমাতে আগামী দুই অর্থবছর (২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮) ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব থেকেও সরে আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অর্থ বিল-২০২৬ সংসদে পাস হওয়ার আগেই এসব পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে অর্থ বিল উত্থাপন করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল। বর্তমানে বছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত।ওই কর্মকর্তা জানান, ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটি বাদ দেওয়া হতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে এ বিধান রাখা হলেও বিভিন্ন মহল এর বিরোধিতা করে। তাদের মতে, এ ধরনের বাধ্যবাধকতা আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং নতুন গ্রাহকদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে (বিটুবি) লেনদেনে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের প্রস্তাব অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এ ছাড়া সোনা বিক্রির ওপর মূলধনী লাভ কর (ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স) বর্তমান প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

প্রস্তাবিত অর্থ বিলে করদাতার রিটার্নে ঘোষিত সোনা, রুপা, গহনা, মূল্যবান পাথর, হীরা, মুদ্রা, ডিজিটাল মুদ্রা, শিল্পকর্ম, প্রাচীন নিদর্শন ও ক্লাব সদস্যপদ বিক্রি বা হস্তান্তর থেকে অর্জিত লাভের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।

এ ছাড়া ট্রেজারি বিল, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ডিবেঞ্চার, সুকুক, শরিয়াহভিত্তিক সিকিউরিটিজ এবং শেয়ার ও স্টক বিক্রির মূলধনী লাভের ওপরও ১৫ শতাংশ করের প্রস্তাব রয়েছে।

স্টক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম

আরেকটি সম্ভাব্য পরিবর্তন হলো, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং শুধু আইসিটি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে।তবে আবাসন খাতের ডেভেলপারদের কর ব্যবস্থায় আপাতত কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ব্যাংকের ঋণ-আমানত সুদের হার বেঁধে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ
ব্যাংকের ঋণ-আমানত সুদের হার বেঁধে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ব্যাংকের ঋণ-আমানত সুদের হার বেঁধে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকগুলো যাতে আমানতের সুদের তুলনায় ঋণের সুদহার অতিরিক্ত বাড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যে ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান বা ইন্টারমিডিয়েশন স্প্রেড সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ এ সীমার আওতার বাইরে থাকবে।

এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার সোমবার (২৯ জুন) জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি)। সার্কুলারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ব্যাংক আমানতের সুদহার তুলনামূলক কম বাড়ালেও ঋণের সুদহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান বা স্প্রেড অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প ও উৎপাদন খাতের ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রেফারেন্স রেট ও মার্জিনভিত্তিক ঋণের সুদহার ব্যবস্থা (SMART) চালুর সময় স্প্রেড-সংক্রান্ত আগের সব নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের মে মাসে পুরোপুরি বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা কার্যকর হলেও স্প্রেডের কোনো সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বর্তমানে অনেক ব্যাংক গড়ে সাড়ে ৬ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করলেও ১২ শতাংশের বেশি সুদে ঋণ বিতরণ করছে। ফলে গড় স্প্রেড সাড়ে ৫ শতাংশেরও বেশি হয়েছে। এমনকি কয়েকটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ ব্যবধান ৮ থেকে ১০ শতাংশেরও বেশি।

এ পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীল খাতের ঋণের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ছাড়া অন্য সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ ও আমানতের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান সর্বোচ্চ ৪ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৯(২)(চ) ও ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন এ নির্দেশনা কার্যকর হলে ব্যাংকগুলো ঋণের সুদহার নির্ধারণে আরও সংযত হবে। এর ফলে ঋণগ্রহীতাদের অর্থায়ন ব্যয় কমবে এবং উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা করছেন।