শেয়ারবাজার প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন হারভেস্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থের ব্যবহার সংক্রান্ত নিরীক্ষিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটি রাইট শেয়ার থেকে সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ৭০ কোটি ১০ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৯ টাকা বিভিন্ন খাতে ব্যয় করেছে। অন্যদিকে অব্যবহৃত অর্থের একটি বড় অংশ স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে বিনিয়োগ করা হয়েছে, যার পরিমাণ সুদসহ ২২২ কোটি ৪৩ লাখ ৭২ হাজার ৫৫৭ টাকা।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে জমা দেওয়া ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের নিরীক্ষিত রাইট ইস্যু অর্থ ব্যবহারের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাইট শেয়ারের মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ ব্যবহার করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজার সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে কোম্পানিটি। নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান কে. এম. আলম অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানি রাইট ইস্যুর অর্থ নির্ধারিত খাতেই ব্যবহার করেছে এবং এ অর্থ ব্যবহারে বিএসইসির অনুমোদনের শর্ত অনুসরণ করা হয়েছে।
চার খাতে ব্যয় ৭০ কোটি টাকার বেশি
নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাইট ইস্যুর অর্থ থেকে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ব্যাংক ঋণ পরিশোধে। এ খাতে ব্যয় করা হয়েছে ২৯ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা নির্ধারিত বরাদ্দের শতভাগ।
এছাড়া যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয়ে ব্যয় করা হয়েছে ২৮ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ৫০১ টাকা। ভূমি উন্নয়ন, সড়ক, কারখানা ভবন, ওয়্যারহাউস, বয়লার শেড, এলপিজি শেড, ডব্লিউটিপি শেডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৬৬৩ টাকা।
ইনস্টলেশন ও ইউটিলিটি সংযোগে ব্যয় হয়েছে ৮২ লাখ ১ হাজার ৩৫৮ টাকা এবং রাইট ইস্যু সংক্রান্ত খরচ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৪৮ লাখ ১৩ হাজার ৩৬৮ টাকা।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি ১০ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৯ টাকা।
প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অগ্রগতি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে ওয়্যারহাউস-১ নির্মাণের কাজ সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি অর্জন করেছে। এ খাতে বরাদ্দের প্রায় ৭৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।বাংলাদেশের অর্থনীতি
অন্যদিকে পার্কিং মেশিন (ফুড ইনগ্রেডিয়েন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট) স্থাপনে ৭৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ, পাস্তুরাইজেশন ইউনিটে ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, ট্রে উৎপাদন লাইনে ৯০ শতাংশ এবং রোটারি ওভেনে ১০০ শতাংশ বিনিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া ফ্রিজার, মেটাল ডিটেক্টর, বয়লার, ইটিপি, সাব-স্টেশন, এয়ার কম্প্রেসরসহ বেশ কয়েকটি যন্ত্রপাতি ক্রয় কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
এফডিআরে রাখা অর্থের বিপরীতে ঋণ
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাইট ইস্যুর অব্যবহৃত অর্থ স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকে ৪৪টি এফডিআরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এসব এফডিআরের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২২২ কোটি ৪৩ লাখ ৭২ হাজার ৫৫৭ টাকা।
তবে কোম্পানিটি এসব এফডিআরের বিপরীতে স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকের পান্থপথ শাখা থেকে ১৯৮ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে। যা এফডিআরের মূল টাকার প্রায় ৯০ শতাংশের সমান। প্রতিবেদনের তারিখ পর্যন্ত ওই ঋণের স্থিতি ছিল ১৯৮ কোটি ১৬ লাখ ৯৩ হাজার ৩২০ টাকা।
নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণ
স্বতন্ত্র নিরীক্ষক কে. এম. আলম অ্যান্ড কোং জানিয়েছে, রাইট ইস্যুর অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোম্পানি রাইট শেয়ার অফার ডকুমেন্টে বর্ণিত উদ্দেশ্য অনুসরণ করেছে। অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র, ভাউচার ও ব্যাংক বিবরণী পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।
নিরীক্ষকরা মত দিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাইট ইস্যুর অর্থ ব্যবহারের বিবরণী সব গুরুত্বপূর্ণ দিক থেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তা বিএসইসির অনুমোদনের শর্ত ও রাইট শেয়ার অফার ডকুমেন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।বাজার ডেটা পরিষেবা
বিএসইসিতে জমা দেওয়া চিঠিতে গোল্ডেন হারভেস্ট জানিয়েছে, প্রতিবেদনটির দুই স্বাক্ষরকারী পরিচালক গত ১০ দিন বিদেশে অবস্থান করায় নির্ধারিত সময়ের পরে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি।
কোম্পানি সচিব মো. ইব্রাহিম হোসাইন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত প্রান্তিকের নিরীক্ষিত রাইট ইস্যুর অর্থ ব্যবহারের প্রতিবেদন কমিশনের অনুমোদনপত্রের শর্ত অনুযায়ী জমা দেওয়া হয়েছে।