সর্বশেষ লাইভ ই-পেপার
মুখোমুখি রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান: উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পুরো দেশ
খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
লোড হচ্ছে...
নিউজ লোড হচ্ছে...
ব্রেকিং:
সব হারিয়েও কেন মানুষ শেয়ারবাজার ছাড়ে নামুখোমুখি রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান: উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পুরো দেশতিন দিনের রাস্ট্রীয় সফর শেষে ট্রাম্প ফিরলেন আমেরিকা।বিএসইসি‘র চেয়ারম্যান কে হতে যাচ্ছেন ?নতুন আরেকটি ওয়াসা গঠনের সিদ্ধান্ত।ত্রয়োদশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন আসন থেকে কে নির্বাচিত হলেন‘রেপ করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যায়, পরে গলাটিপে হত্যা করি’সিলেটে চলন্ত ট্রেনে আগুন আতঙ্ক!অরিয়ন ফার্মার বিনিয়োগকারীদের জন্য দুঃসংবাদ।পুঁজিবাজারের জন্য একগুচ্ছ মেগা পরিকল্পনা নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জেড কোম্পানিগুলোর সুখবর।বাংলাদেশ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সহকারী সমিতি কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের আহবায়ক কমিটি গঠন।মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সম্ভাবনায় অস্ট্রেলিয়ান ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন সতর্কতা১ বিলিয়ন ডলার নিয়ে বন্ধ এমএলএম এমটিএফইগির্জা পোড়ানো নাশকতায় পাকিস্তানে ১৪৬ গ্রেপ্তারজয়কে হত্যাচেষ্টা : শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের ৭ বছরের জেলবড়া পিঠা তৈরির রেসিপি পাকা কলা দিয়ে

মুখোমুখি রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান: উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পুরো দেশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
মুখোমুখি রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান: উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পুরো দেশ

মুখোমুখি রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান: উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পুরো দেশ

স্টাফ রিপোর্টারঃ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৯৬ সালের ২০ মে এক উত্তেজনাপূর্ণ ও নাটকীয় দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। সেদিন দেশের বিভিন্ন সেনানিবাস থেকে ভারী অস্ত্রসজ্জিত সেনাদল ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। অন্যদিকে রাজধানীতে তাদের প্রতিহত করতে প্রস্তুতি নেয় সেনাবাহিনীর আরেকটি অংশ।

সে সময় দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর পর নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছিল। ঠিক এমন সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিম ও রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস-এর মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছে যায়।

বিভিন্ন সূত্র ও প্রকাশিত বই অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৮ মে দুই জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। তারা হলেন বগুড়া সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ খান এবং তৎকালীন বিডিআরের উপ-মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার মিরন হামিদুর রহমান।

সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব এম এ হাকিম তার বই ‘একটি সামরিক অভ্যুত্থান: ব্যর্থ প্রয়াস’-এ উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সেনাপ্রধান নাসিম রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং তার অনুগত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।

২০ মে সেনাপ্রধান বিভিন্ন ডিভিশনে যোগাযোগ করে ঢাকায় সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেন। ময়মনসিংহ ও বগুড়া সেনানিবাস থেকে ব্রিগেড পর্যায়ের সেনাদল ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। যশোর থেকেও সেনা প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল এম এ মতিন তার বইয়ে দাবি করেন, সেনাপ্রধানের উদ্দেশ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিশেষ করে রেডিও-টেলিভিশন কেন্দ্র এবং বঙ্গভবনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির অনুগত সেনা কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাল্টা প্রস্তুতি নেন। সাভারের নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামান ও কুমিল্লার ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আনোয়ার হোসেন সেনাপ্রধানের নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান।

ঢাকামুখী সেনাদলকে প্রতিরোধ করতে শ্রীপুর, আরিচাঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে সেনা মোতায়েন করা হয়। বঙ্গভবন, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও সেনা নিরাপত্তার আওতায় নেওয়া হয়।

বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, সেদিন রাজধানীর রাস্তায় ট্যাংক চলাচল করতে দেখা যায় এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, অনেক মানুষ ঘরে অবস্থান নেন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ২০ মে বিকেলে রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস সেনাপ্রধান লে. জেনারেল নাসিমকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ ঘোষণা প্রচার করা হয়।

রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, সেনাবাহিনীর আইন ও বিধি অনুসারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সেনাপ্রধানের আচরণকে সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে জেনারেল নাসিম ওই সিদ্ধান্তকে “অবৈধ” বলে দাবি করেন।

যদিও সেনাবাহিনীর দুই অংশের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তবে কোথাও সরাসরি সংঘর্ষ বা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। শেষ পর্যন্ত সেনাপ্রধানের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনার মাত্র ২২ দিন পর অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯৬ সালের ২০ মে বাংলাদেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অধ্যায়।

সব হারিয়েও কেন মানুষ শেয়ারবাজার ছাড়ে না

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
সব হারিয়েও কেন মানুষ শেয়ারবাজার ছাড়ে না

পুঁজিবাজার

শেয়ারবাজার ডেস্কঃ বাংলাদেশের শেয়ারবাজার নিয়ে একটি প্রশ্ন বহু বছর ধরেই ঘুরেফিরে আসে— এত লোকসান, এত হতাশা, এত অভিযোগের পরও মানুষ কেন বারবার এই বাজারে ফিরে আসে? কেন একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী কয়েক লাখ টাকা হারিয়েও আবার নতুন আশায় শেয়ার কেনেন? কেন ধসের পরও ব্রোকারেজ হাউসের মনিটরের সামনে বসে থাকেন হাজারো মানুষ?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু অর্থনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের স্বপ্ন, দ্রুত আর্থিক নিরাপত্তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সমাজের আর্থিক বাস্তবতা।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার গত তিন দশকে একাধিক বড় ধস দেখেছে। ১৯৯৬ সালের ভয়াবহ ধসের স্মৃতি এখনও অনেকে ভুলতে পারেননি। এরপর ২০১০-১১ সালের বুদবুদ সৃষ্টি ও ধস লাখো বিনিয়োগকারীর জীবনকে ওলটপালট করে দেয়। সেই ধসের ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকায়নি। এরপরও নানা সময়ে বাজারে সাময়িক উত্থান এসেছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল আস্থা তৈরি হয়নি।

রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তন হয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় পরিবর্তন এসেছে, সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তদন্ত কমিটি হয়েছে, আইন সংশোধন হয়েছে— কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড় অংশের অভিযোগ একই রয়ে গেছে, ‘বাজারে আমরা হারি, অন্য কেউ লাভ করে।’

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর বাজার

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের অন্যতম বড় বাস্তবতা হলো এটি এখনও মূলত খুচরা বা ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীনির্ভর। বিশ্বের উন্নত বাজারগুলোতে পেনশন ফান্ড, বিমা কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড, বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল বা বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারকে স্থিতিশীল রাখে। কিন্তু বাংলাদেশে সেই কাঠামো এখনও দুর্বল।

ফলে বাজারের বড় অংশ পরিচালিত হয় আবেগ, গুজব এবং স্বল্পমেয়াদি মুনাফার প্রত্যাশায়। অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী তখনই বাজারে প্রবেশ করেন, যখন কোনও শেয়ারের দাম ইতোমধ্যে অনেক বেড়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব ভিডিও, ফেসবুক গ্রুপ, অনানুষ্ঠানিক টিপস বা ব্রোকারেজ হাউসের কথাবার্তার ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত নেন।

অন্যদিকে তুলনামূলক তথ্যসমৃদ্ধ ও অভিজ্ঞ অংশগ্রহণকারীরা ঠিক সেই সময় শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে যান। পরে দরপতনের সময় আবার কম দামে শেয়ার কিনে বাজারে ফেরেন। অর্থাৎ বাজারের একটি বড় অংশে সম্পদের স্থানান্তর ঘটে কম জ্ঞানসম্পন্ন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বেশি প্রস্তুত অংশগ্রহণকারীদের হাতে।

মানুষ কেন বারবার ফিরে আসে?

প্রশ্ন হলো, এত ক্ষতির পরও সাধারণ মানুষ কেন শেয়ারবাজার ছাড়েন না?

এর একটি বড় কারণ হলো, বিকল্প বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা। ব্যাংকে আমানতের সুদ অনেক সময় মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম থাকে। জমি বা ফ্ল্যাট কিনতে বড় মূলধন প্রয়োজন। ব্যবসা শুরু করার ঝুঁকি অনেকের পক্ষে নেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে শেয়ারবাজার এমন একটি জায়গা, যেখানে তুলনামূলক কম অর্থ নিয়েও বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখা যায়।

আরেকটি কারণ মনস্তাত্ত্বিক। মানুষ সাধারণত ক্ষতি মেনে নিতে চান না। একজন বিনিয়োগকারী যখন পাঁচ লাখ টাকা হারান, তখন তিনি প্রায়ই ভাবেন, ‘আরেকটু অপেক্ষা করলে হয়তো বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।’ এই আশা তাকে বাজারে ধরে রাখে। পরে নতুন করে কিছু টাকা বিনিয়োগ করে আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

এছাড়া বাজারে হঠাৎ উত্থানের গল্পও মানুষকে টানে। কোনও পরিচিত ব্যক্তি অল্প সময়ে দ্বিগুণ লাভ করেছেন, এমন গল্প দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে নতুন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ‘সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে’ এমন মানসিকতা তৈরি হয়। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় ‘হার্ড বিহেভিয়ার’ বা দলবদ্ধ আচরণ।

জেড ক্যাটাগরির জম্বি কোম্পানি

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো দুর্বল ও অকার্যকর কোম্পানির উপস্থিতি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে বর্তমানে ৫০টিরও বেশি কোম্পানি বছরের পর বছর পড়ে আছে। এসব কোম্পানির অনেকেই নিয়মিত লভ্যাংশ দেয় না, সময়মতো বার্ষিক সাধারণ সভা করে না, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে না কিংবা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ অবস্থায় পরিচালনা করে।

তারপরও এসব কোম্পানির শেয়ার বাজারে লেনদেন হয়। কখনও কখনও এসব শেয়ার অস্বাভাবিকভাবে দরবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকাতেও উঠে আসে।

বিশ্লেষকদের ভাষায়, এগুলো অনেকটা ‘জম্বি কোম্পানি’, যাদের প্রকৃত অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল, কিন্তু বাজারে এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে। কম ফ্রি-ফ্লোট ও কম মূলধনি হওয়ায় এসব শেয়ার সহজে কারসাজির শিকার হয়। দাম দ্রুত বাড়িয়ে পরে বিক্রি করে দেওয়ার ‘পাম্প অ্যান্ড ডাম্প’ কৌশলের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়েন।

অর্থনীতির চাপও বাড়াচ্ছে সংকট

শুধু বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা নয়, সামষ্টিক অর্থনীতির চাপও শেয়ারবাজারকে দুর্বল করে তুলছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ডলার সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, আমদানি সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব উৎপাদন ও সেবা খাতের কোম্পানিগুলোর আয় কমিয়ে দিয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে তালিকাভুক্ত উৎপাদন ও সেবা খাতের প্রায় ৭৫ শতাংশ কোম্পানি হয় লোকসান করেছে, নয়তো আগের তুলনায় কম মুনাফা করেছে। অনেক কোম্পানি আবার আর্থিক প্রতিবেদনই প্রকাশ করেনি।

যেসব কোম্পানি নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না, তাদের অনেকের ব্যবসা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সময়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোকে বাজারে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।

হতাশা বাড়ছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে

মতিঝিলের ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে এখন প্রায়ই এক ধরনের নিস্তব্ধতা দেখা যায়। বড় মনিটরে সূচকের লাল-সবুজ ওঠানামা চললেও আগের মতো উৎসাহ নেই অনেকের মধ্যে।

একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বলেন, সাড়ে আট লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। এখন সেটা তিন লাখ টাকার কাছাকাছি নেমে এসেছে। সরকার পরিবর্তনের পর ভেবেছিলাম বাজার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু এখন আবার টানা দরপতন চলছে। মনে হয়, এই ক্ষতি আর কোনও দিন কাটিয়ে উঠতে পারবো না।

তার এই অভিজ্ঞতা একা নয়। বাজারে লাখো বিনিয়োগকারীর হতাশা এখন প্রায় একই রকম।

তবে কি শেয়ারবাজার শুধু ক্ষতির জায়গা

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সমস্যাটা শেয়ারবাজারের ধারণায় নয়; সমস্যাটা বাজারের সুশাসন, কাঠামো ও বিনিয়োগ সংস্কৃতিতে।

একটি কার্যকর পুঁজিবাজার আসলে অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকনির্ভর অর্থনীতিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত ঋণনির্ভর হয়ে পড়ে। এতে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের চাপ বাড়ে। বিপরীতে শক্তিশালী পুঁজিবাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন জোগান দিতে পারে।

উন্নত দেশগুলো বহু আগেই এই ভারসাম্য তৈরি করেছে। প্রতিবেশী ভারতও প্রযুক্তিনির্ভরতা, তথ্যপ্রকাশ, মিউচুয়াল ফান্ড সংস্কৃতি ও বিনিয়োগ শিক্ষার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। সেখানে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (এসআইপি) দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে।

বাংলাদেশে কী করা জরুরি

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কয়েকটি বিষয় জরুরি হয়ে পড়েছে।

১. দুর্বল কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

বছরের পর বছর লোকসান করা, আর্থিক প্রতিবেদন না দেওয়া বা কার্যক্রম বন্ধ কোম্পানিগুলোকে পুনর্গঠন, একীভূতকরণ বা ডিলিস্টিংয়ের আওতায় আনতে হবে।

২. বাজার নজরদারি জোরদার

কারসাজি শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত জরিমানা, লেনদেন নিষেধাজ্ঞা ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. ব্রোকারেজ হাউসের জবাবদিহি

গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা, স্বচ্ছতা ও তথ্যপ্রকাশ নিশ্চিত না হলে বাজারে আস্থা ফিরবে না। সাময়িক মুনাফার বদলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী ধরে রাখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

৪. মিউচুয়াল ফান্ড খাতের সংস্কার

মাসিক পারফরম্যান্স, পোর্টফোলিও, ফি, এনএভি ও ঝুঁকি– তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রকাশ করতে হবে। পেশাদার সম্পদ ব্যবস্থাপনা ছাড়া সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে না।

৫. বিনিয়োগ শিক্ষা

সবচেয়ে বড় ঘাটতি এখানেই। এখনও অনেক মানুষ শেয়ারবাজারকে ‘দ্রুত ধনী হওয়ার জায়গা’ মনে করেন। অথচ সফল বিনিয়োগ মূলত দীর্ঘমেয়াদি, গবেষণানির্ভর এবং ধৈর্যের বিষয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুল-কলেজ পর্যায় থেকেই আর্থিক শিক্ষা বাড়ানো দরকার। বিভাগীয় শহরগুলোতে বিনিয়োগ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা উচিত।

৬. নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম

কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, লভ্যাংশ ইতিহাস, ঋণের পরিমাণ, আয়ের প্রবণতা ও খাতভিত্তিক তুলনা সহজভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে গুজবনির্ভর বিনিয়োগ কমবে।

ঝুঁকির আড়ালেও সম্ভাবনা

শেয়ারবাজারে ঝুঁকি থাকবে, এটাই বাস্তবতা। কিন্তু ঝুঁকি আর অনিয়ম এক বিষয় নয়। একটি সুস্থ বাজারে বিনিয়োগকারী জানবেন, তিনি লাভও করতে পারেন, ক্ষতিও হতে পারে। কিন্তু তিনি অন্তত বিশ্বাস করবেন, বাজারটি ন্যায্যভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের মানুষ এখনও শেয়ারবাজার ছেড়ে যাননি, এটাই বড় বার্তা। এর অর্থ, মানুষের ভেতরে এখনও আশা আছে। তারা এখনও বিশ্বাস করতে চান, একদিন এই বাজার স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল হবে।

কারণ শেষ পর্যন্ত শেয়ারবাজার শুধু কিছু সংখ্যার খেলা নয়। এটি মানুষের ভবিষ্যৎ, সঞ্চয়, স্বপ্ন এবং দেশের অর্থনীতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। আর সেই প্রতিষ্ঠানকে আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনা এখন শুধু বিনিয়োগকারীদের নয়, পুরো অর্থনীতির স্বার্থেই জরুরি।

তিন দিনের রাস্ট্রীয় সফর শেষে ট্রাম্প ফিরলেন আমেরিকা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
তিন দিনের রাস্ট্রীয় সফর শেষে ট্রাম্প ফিরলেন আমেরিকা।

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে চীন ছাড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আজ শুক্রবার (১৫ মে) এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এক জমকালো বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিদায়ী অনুষ্ঠানে লাল গালিচার দুপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মার্কিন ও চীনা পতাকা নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান কর্মকর্তারা।

আজ শুক্রবার ছিল ট্রাম্পের চীন সফরের তৃতীয় ও শেষদিন। সফরের শেষ করার অংশ হিসেবে আজ সকালে এক সময়ের রাজকীয় উদ্যান বেইজিংয়ের ঝোংনানহাই কমপ্লেক্সে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনায় বসেন ট্রাম্প।
 
এই ঝোংনানাহাই কমপ্লেক্স-এ ক্ষমতাসীন চীনা কম্যুনিস্ট পার্টি এবং স্টেট কাউন্সিল বা চীনের মন্ত্রসভার কার্যালয় অবস্থিত। জায়গাটি রাজধানীর বিখ্যাত প্রত্নস্থল ফরবিডেন সিটির সংলগ্ন এবং তিয়ানানমেন স্কোয়ারের কাছেই।
 
ট্রাম্পকে প্রাচীরঘেরা ঝোংনানহাই চত্বরে অবস্থিত শতবর্ষী বৃক্ষরাজি পরিদর্শনের এক বিরল সুযোগ দেয়া হয়। বাগানের কিছু গাছের বয়স এক হাজার বছরেরও বেশি যা দেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেন।
 
ভিডিওতে দেখা যায়, শি জিনপিং নিজেই ট্রাম্পকে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত এই কমপ্লেক্সের নান্দনিক বাগানপথ, লেকপাড়ের করিডর এবং ফুলে সাজানো বিভিন্ন অংশ ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন। এ সময় ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করেন, অন্য বিদেশি নেতাদেরও কি এই কমপ্লেক্সে স্বাগত জানানো হয়?
 
 
জবাবে শি বলেন, ‘খুবই কম। শুরুতে আমরা এখানে সাধারণত কোনো কূটনৈতিক অনুষ্ঠান করতাম না। পরে কিছু আয়োজন শুরু হলেও সেটি এখনো অত্যন্ত বিরল। যেমন (রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট) ভ্লাদিমির পুতিন এখানে এসেছেন।’
 
এরপর জিনপিং ট্রাম্পকে ২৮০ বছর পুরনো একটি গাছ স্পর্শ করার আমন্ত্রণ জানান। ট্রাম্প তখন জবাব দেন, ‘ভালো। আমার পছন্দ হয়েছে।’ এরপর ট্রাম্প ও জিনপিং শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন। পরে দুই দেশের প্রতিনিধিদল ব্যক্তিগত বৈঠকে অংশ নেয়।
 
গত বুধবার (১৩ মে) ট্রাম্পের চীন সফর শুরু হয়। তার এই সফরে রাজকীয় অভ্যর্থনা, কুচকাওয়াজরত সেনাদের উপস্থিতি, বিলাসবহুল নৈশভোজ এবং গোপন বাগানে ব্যক্তিগত ভ্রমণের আয়োজন করা হয়। সফরকালে ট্রাম্প বারবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর প্রশংসা করেন এবং তার আন্তরিকতা ও ব্যক্তিত্বের কথা উল্লেখ করেন।
 
ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের সবশেষ বৈঠক নিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে বেইজিং ত্যাগ করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্কের জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান হয়েছে, এমন কোনো তাৎক্ষণিক ইঙ্গিত মেলেনি। যদিও চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক আপাতত নতুন করে স্থিতিশীল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
 
 
দুই দিনের বৈঠকে ইরান, তাইওয়ান ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। এ সময় নিবিড় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি ছিল জাঁকজমকপূর্ণ ‘সফট ডিপ্লোম্যাসি’র প্রদর্শনও। প্রায় এক দশক পর বেইজিংয়ে দীর্ঘদিনের এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী নেতার মুখোমুখি বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক উষ্ণতার বিশেষ আয়োজন দেখা যায়।
 

ট্রাম্প-শি বৈঠকে ইরান যুদ্ধের ছায়াবেইজিং সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের বৈঠকের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে ইরান যুদ্ধ ইস্যু। আলোচনার আগে ধারণা করা হচ্ছিল, ট্রাম্প তার চীনা সমকক্ষকে ইরান সংকট সমাধানে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে রাজি করাতে পারেন।

 
ইরানের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক অংশীদার এবং দেশটির তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন বরাবরই যুদ্ধ চলাকালে নিজেকে শান্তির পক্ষের শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে।
 
বৃহস্পতিবার দুই নেতার মধ্যে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরান প্রসঙ্গ আলোচনায় আসে। তবে সফর শেষে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে, তারা তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দাবির পক্ষে চাপ প্রয়োগ করবে। বরং দুই পক্ষের বক্তব্যে এখন পর্যন্ত ইঙ্গিত মিলেছে, শীর্ষ বৈঠকটি এ ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি।
 
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং ইরান সংকট সমাধানে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম না দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এনবিসি নিউজকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে জানান, ইরান সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সহায়তা চায়নি।
 
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশ একমত হয়েছে যে স্ট্রেইট অব হরমুজ অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।
 
 
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শি জিনপিং ‘জলপথটিকে সামরিকীকরণের বিরোধিতা এবং এর ব্যবহারে টোল আরোপের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে চীনের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।’ পাশাপাশি চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল আমদানির আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
 
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নতুন জ্বালানি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, যেখানে ইরানি তেলের বড় ক্রেতা চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তেল আমদানি বাড়াতে পারে। তবে ট্রাম্প-শি বৈঠক ইরান সংকটে বাস্তব কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। কারণ বেইজিং মূলত তাদের আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছে।
 
চীন ইতোমধ্যে একাধিকবার বলেছে, তারা শান্তি আলোচনায় সহায়তার জন্য যা সম্ভব করবে। গত মাসে শি জিনপিং স্ট্রেইট অব হরমুজে ‘স্বাভাবিক নৌ চলাচল বজায় রাখার’ আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে চীনের নীতিগত অবস্থান হলো, তারা সংঘাতে জড়িত কোনো দেশকে অস্ত্র সরবরাহ করে না।
 
বেইজিং ইরানের এই ঘোষণাকে সমর্থন করে যে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না, যদিও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনার অধিকার ইরানের রয়েছে বলেও তারা মনে করে।
 
শুক্রবার সকালে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই যুদ্ধ কখনোই হওয়া উচিত ছিল না।’ একই সঙ্গে তারা দাবি করে, এ বিষয়ে চীনের অবস্থান ‘একেবারেই পরিষ্কার।’
 

অন্যদিকে ট্রাম্পও মনে হয় বুঝতে পেরেছেন, ইরানের ওপর বেইজিং কতটা চাপ প্রয়োগ করবে তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফক্স নিউজে তিনি বলেন, ‘দেখুন, তিনি বন্দুক নিয়ে আসছেন না… গুলি ছুড়তেও আসছেন না।’ ইরানের ওপর শি জিনপিং প্রভাব খাটাবেন কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি খুবই ভালো আচরণ করেছেন।’ 

বিএসইসি‘র চেয়ারম্যান হিসেবে যাদের গুঞ্জন

বিএসইসি‘র চেয়ারম্যান কে হতে যাচ্ছেন ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
বিএসইসি‘র চেয়ারম্যান কে হতে যাচ্ছেন ?

বিএসইসি‘র চেয়ারম্যান হিসেবে যাদের গুঞ্জন

শেয়ারবাজার ডেস্কঃ পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান বসানোর উদ্যোগের মধ্যে আলোচনায় আসছে বিভিন্ন নাম।

সেখানে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলামের নাম যেমন আসছে, তেমনি আসছে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী ও সাবেক সচিব ফরিদুল ইসলামের নামও।

তবে গত কয়েকদিন ধরে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান মাসুদ খানকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পাওয়া খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে সরিয়ে বর্তমান বিএনপি সরকার শেষ পর্যন্ত কাকে বিএসইসির দায়িত্ব দেবে, তা জানতে প্রজ্ঞাপন জারি অবধি অপেক্ষা করতে হবে।

পুঁজিবাজারের বড় বিনিয়োগকারী ও স্টেকহোল্ডাররা ডিবিএ সভাপতি সাইফুলকে সমর্থন দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, অবসরপ্রাপ্ত আমলা বা অনভিজ্ঞ শিক্ষাবিদদের তুলনায় তার প্রায়োগিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বেশি, তিনিই বর্তমান সময়ের চাহিদা ভালো বুঝবেন।

আবার হিসাববিদ ও ঝানু করপোরেট পেশাদার মাসুদ খানকেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদের জন্য শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের পট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ১৩ অগাস্ট বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজকে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিএনপিঘনিষ্ঠ সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের ছেলে মাসরুর রিয়াজ আইএফসির সাবেক একজন কর্মকর্তা, যিনি ২০১০-এর দশকে বিনিয়োগ প্রসারে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন।

কিন্তু তাকে বিএসইসির চেয়ারম্যান করার খবরে একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে সখ্যের অভিযোগ তোলা হয় তার বিরুদ্ধে। সালমান এফ রহমানের সঙ্গে তার একটি ছবিও সে সময় ফেইসবুকে ছড়ানো হয়।

পরে বিএসইসির কর্মকর্তারাও মাসরুর রিয়াজের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আপত্তি জানান। সেই পরিস্থিতিতে মাসরুর রিয়াজ বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

পরে সাবেক ব্যাংকার খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বিএসইসির শীর্ষ পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা চলছে। বিএসইসি চেয়ারম্যান পদে বয়সসীমার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়।

শুরুর দিকে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ফরিদুল ইসলামের নাম আলোচনায় থাকলেও পরে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান মাসুদ খান এবং বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকীর নাম অন্যদের ছাপিয়ে যায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মাসুদ খানের নাম চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য ফাইল পাঠানো হয়েছে। অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

এ বিষয়ে মাসুদ খানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুনেছি বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে আমার নামটি আছে। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।”

৩০ এপ্রিল সংসদে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধনী) বিল ২০২৬ পাস হয়, যার মাধ্যমে বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বয়সসীমা বাতিল হয়ে যায়। অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের কমিশনে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই সরকার ওই বয়সসীমা তুলে দিয়েছে।

এর পর ৭০ বছরের বেশি বয়সী এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা মা্সুদ খানের নাম সবার সামনে চলে আসে। গত কয়েক দিনে তার নিয়োগ নিয়ে জল্পনা বেশ জোরালো হয়।

ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি যতোটুকু জেনেছি, মাসুদ খানের নিয়োগের বিষয়টি সরকারের শীর্ষ মহল চূড়ান্ত করেছে। তার ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।”

তবে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি স্পষ্ট করে কোনো নাম বলতে চাননি।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা এই বিষয়টি নিয়ে অনেক বিশ্লেষণ করছি। আমাদের আরও একটু সময় দরকার। ইনশাআল্লাহ, কিছু জানলে আপনাদের আপডেট জানাব।”

এদিকে মাসুদ খানকে গত মাসে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউনিলিভারের পাশাপাশি তিনি বর্তমানে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ এবং ম্যারিকো বাংলাদেশের স্বাধীন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, তিনি কমিশনে যোগ দিতে আগ্রহী নন। এ বিষয়টি কর্তৃপক্ষ হয়ত আগেই জানত। তাই তারা সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

“সরকারের একজন প্রতিনিধি আমাকে বিএসইসির প্রধান হিসেবে যোগ দিতে আগ্রহী কি না জানতে চেয়েছিলেন। আমি অনাগ্রহের কথা জানিয়ে দিয়েছি।”

তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান হিসেবে আমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনেক আগেই আমি বিএসইসি ছেড়েছি। সেখানে ফিরে যাওয়ার আর কোনো আগ্রহ আমার নেই।”

ঢাকাপ্রেস/15.05.2026