সর্বশেষ লাইভ ই-পেপার
বিএসইসি‘র চেয়ারম্যান কে হতে যাচ্ছেন ?
খুঁজুন
বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১৭ আষাঢ়, ১৪৩৩
লোড হচ্ছে...
নিউজ লোড হচ্ছে...
ব্রেকিং:
ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় নেতানিয়াহু।টিআইএন ও কর নিয়ে আসছে নতুন সিদ্ধান্ত।ব্যাংকের ঋণ-আমানত সুদের হার বেঁধে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকনতুন পে স্কেলে থাকছে যেসকল সুবিধা।গোল্ডেন হার্ভেস্ট বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর।পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এস এম জাহাঙ্গীর আলম।সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয় বাংলাদেশের।ছিনতাইকারীকে ঝাপটে ধরেছিলেন র‌্যাব সদস্য ইমন, বুকে ছুরকাঘাতে হত্যাসিলেটের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আলাদা নজর রয়েছে: এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীপৃথিবীর ৬টি দেশ যেখানে রাত হয় না – জানলে অবাক হবেন!নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলাবড় মুলধনী কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভূক্তির আওতায় আনা হচ্ছে।সব হারিয়েও কেন মানুষ শেয়ারবাজার ছাড়ে নামুখোমুখি রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান: উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পুরো দেশতিন দিনের রাস্ট্রীয় সফর শেষে ট্রাম্প ফিরলেন আমেরিকা।বিএসইসি‘র চেয়ারম্যান কে হতে যাচ্ছেন ?নতুন আরেকটি ওয়াসা গঠনের সিদ্ধান্ত।ত্রয়োদশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন আসন থেকে কে নির্বাচিত হলেন‘রেপ করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যায়, পরে গলাটিপে হত্যা করি’সিলেটে চলন্ত ট্রেনে আগুন আতঙ্ক!

বিএসইসি‘র চেয়ারম্যান হিসেবে যাদের গুঞ্জন

বিএসইসি‘র চেয়ারম্যান কে হতে যাচ্ছেন ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
বিএসইসি‘র চেয়ারম্যান কে হতে যাচ্ছেন ?

বিএসইসি‘র চেয়ারম্যান হিসেবে যাদের গুঞ্জন

শেয়ারবাজার ডেস্কঃ পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান বসানোর উদ্যোগের মধ্যে আলোচনায় আসছে বিভিন্ন নাম।

সেখানে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলামের নাম যেমন আসছে, তেমনি আসছে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী ও সাবেক সচিব ফরিদুল ইসলামের নামও।

তবে গত কয়েকদিন ধরে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান মাসুদ খানকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পাওয়া খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে সরিয়ে বর্তমান বিএনপি সরকার শেষ পর্যন্ত কাকে বিএসইসির দায়িত্ব দেবে, তা জানতে প্রজ্ঞাপন জারি অবধি অপেক্ষা করতে হবে।

পুঁজিবাজারের বড় বিনিয়োগকারী ও স্টেকহোল্ডাররা ডিবিএ সভাপতি সাইফুলকে সমর্থন দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, অবসরপ্রাপ্ত আমলা বা অনভিজ্ঞ শিক্ষাবিদদের তুলনায় তার প্রায়োগিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বেশি, তিনিই বর্তমান সময়ের চাহিদা ভালো বুঝবেন।

আবার হিসাববিদ ও ঝানু করপোরেট পেশাদার মাসুদ খানকেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদের জন্য শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের পট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ১৩ অগাস্ট বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজকে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিএনপিঘনিষ্ঠ সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের ছেলে মাসরুর রিয়াজ আইএফসির সাবেক একজন কর্মকর্তা, যিনি ২০১০-এর দশকে বিনিয়োগ প্রসারে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন।

কিন্তু তাকে বিএসইসির চেয়ারম্যান করার খবরে একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে সখ্যের অভিযোগ তোলা হয় তার বিরুদ্ধে। সালমান এফ রহমানের সঙ্গে তার একটি ছবিও সে সময় ফেইসবুকে ছড়ানো হয়।

পরে বিএসইসির কর্মকর্তারাও মাসরুর রিয়াজের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আপত্তি জানান। সেই পরিস্থিতিতে মাসরুর রিয়াজ বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

পরে সাবেক ব্যাংকার খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বিএসইসির শীর্ষ পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা চলছে। বিএসইসি চেয়ারম্যান পদে বয়সসীমার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়।

শুরুর দিকে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ফরিদুল ইসলামের নাম আলোচনায় থাকলেও পরে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান মাসুদ খান এবং বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকীর নাম অন্যদের ছাপিয়ে যায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মাসুদ খানের নাম চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য ফাইল পাঠানো হয়েছে। অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

এ বিষয়ে মাসুদ খানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুনেছি বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে আমার নামটি আছে। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।”

৩০ এপ্রিল সংসদে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধনী) বিল ২০২৬ পাস হয়, যার মাধ্যমে বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বয়সসীমা বাতিল হয়ে যায়। অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের কমিশনে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই সরকার ওই বয়সসীমা তুলে দিয়েছে।

এর পর ৭০ বছরের বেশি বয়সী এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা মা্সুদ খানের নাম সবার সামনে চলে আসে। গত কয়েক দিনে তার নিয়োগ নিয়ে জল্পনা বেশ জোরালো হয়।

ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি যতোটুকু জেনেছি, মাসুদ খানের নিয়োগের বিষয়টি সরকারের শীর্ষ মহল চূড়ান্ত করেছে। তার ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।”

তবে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি স্পষ্ট করে কোনো নাম বলতে চাননি।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা এই বিষয়টি নিয়ে অনেক বিশ্লেষণ করছি। আমাদের আরও একটু সময় দরকার। ইনশাআল্লাহ, কিছু জানলে আপনাদের আপডেট জানাব।”

এদিকে মাসুদ খানকে গত মাসে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউনিলিভারের পাশাপাশি তিনি বর্তমানে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ এবং ম্যারিকো বাংলাদেশের স্বাধীন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, তিনি কমিশনে যোগ দিতে আগ্রহী নন। এ বিষয়টি কর্তৃপক্ষ হয়ত আগেই জানত। তাই তারা সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

“সরকারের একজন প্রতিনিধি আমাকে বিএসইসির প্রধান হিসেবে যোগ দিতে আগ্রহী কি না জানতে চেয়েছিলেন। আমি অনাগ্রহের কথা জানিয়ে দিয়েছি।”

তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান হিসেবে আমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনেক আগেই আমি বিএসইসি ছেড়েছি। সেখানে ফিরে যাওয়ার আর কোনো আগ্রহ আমার নেই।”

ঢাকাপ্রেস/15.05.2026

ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় নেতানিয়াহু।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় নেতানিয়াহু।

ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় নেতানিয়াহু।

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসরাইলের রাজনীতিতে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবার তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনই নির্ধারণ করতে পারে চার দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ।

দুর্নীতির একাধিক মামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে সমালোচনার কারণে নেতানিয়াহু এখন দেশ-বিদেশে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অস্তিত্বেরও বড় পরীক্ষা।

নির্বাচনের আগে তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও জটিল করে তুলেছে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত। জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। এর পরপরই তেহরান ইসরাইল, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

একই সময়ে উত্তরের সীমান্তে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে পূর্ণমাত্রার সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে ইসরাইল। ফলে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ পরিচালনার চাপে নেতানিয়াহুর সরকার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু এক ধরনের উভয়সংকটে পড়েছেন। একদিকে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের জন্য মার্কিন প্রশাসন তার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে ইসরাইলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক ইরান এবং তার আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ জনমতের এই বিপরীতমুখী অবস্থান তার জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদেশনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার আগে ও পরে গোয়েন্দা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠনে তার অস্বীকৃতি জনগণের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইসরাইলে অনেকের মতে, ৭ অক্টোবরের হামলা প্রতিরোধে সরকারের ব্যর্থতার দায় এখনো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। এর সঙ্গে দুর্নীতির মামলাগুলো যুক্ত হওয়ায় নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি আরও চাপে পড়েছে।

সব মিলিয়ে, আগামী অক্টোবরের নির্বাচন কেবল ইসরাইলের পরবর্তী সরকার নির্ধারণ করবে না; একই সঙ্গে এটি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের ভবিষ্যৎও নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

টিআইএন ও কর নিয়ে আসছে নতুন সিদ্ধান্ত।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:২৮ অপরাহ্ণ
টিআইএন ও কর নিয়ে আসছে নতুন সিদ্ধান্ত।

টিআইএন ও কর নিয়ে আসছে নতুন সিদ্ধান্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সীমিত আয়ের মানুষের করের চাপ কমাতে আগামী দুই অর্থবছর (২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮) ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব থেকেও সরে আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অর্থ বিল-২০২৬ সংসদে পাস হওয়ার আগেই এসব পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে অর্থ বিল উত্থাপন করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল। বর্তমানে বছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত।ওই কর্মকর্তা জানান, ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটি বাদ দেওয়া হতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে এ বিধান রাখা হলেও বিভিন্ন মহল এর বিরোধিতা করে। তাদের মতে, এ ধরনের বাধ্যবাধকতা আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং নতুন গ্রাহকদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে (বিটুবি) লেনদেনে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের প্রস্তাব অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এ ছাড়া সোনা বিক্রির ওপর মূলধনী লাভ কর (ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স) বর্তমান প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

প্রস্তাবিত অর্থ বিলে করদাতার রিটার্নে ঘোষিত সোনা, রুপা, গহনা, মূল্যবান পাথর, হীরা, মুদ্রা, ডিজিটাল মুদ্রা, শিল্পকর্ম, প্রাচীন নিদর্শন ও ক্লাব সদস্যপদ বিক্রি বা হস্তান্তর থেকে অর্জিত লাভের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।

এ ছাড়া ট্রেজারি বিল, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ডিবেঞ্চার, সুকুক, শরিয়াহভিত্তিক সিকিউরিটিজ এবং শেয়ার ও স্টক বিক্রির মূলধনী লাভের ওপরও ১৫ শতাংশ করের প্রস্তাব রয়েছে।

স্টক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম

আরেকটি সম্ভাব্য পরিবর্তন হলো, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং শুধু আইসিটি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে।তবে আবাসন খাতের ডেভেলপারদের কর ব্যবস্থায় আপাতত কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ব্যাংকের ঋণ-আমানত সুদের হার বেঁধে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ
ব্যাংকের ঋণ-আমানত সুদের হার বেঁধে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ব্যাংকের ঋণ-আমানত সুদের হার বেঁধে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকগুলো যাতে আমানতের সুদের তুলনায় ঋণের সুদহার অতিরিক্ত বাড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যে ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান বা ইন্টারমিডিয়েশন স্প্রেড সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ এ সীমার আওতার বাইরে থাকবে।

এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার সোমবার (২৯ জুন) জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি)। সার্কুলারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ব্যাংক আমানতের সুদহার তুলনামূলক কম বাড়ালেও ঋণের সুদহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান বা স্প্রেড অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প ও উৎপাদন খাতের ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রেফারেন্স রেট ও মার্জিনভিত্তিক ঋণের সুদহার ব্যবস্থা (SMART) চালুর সময় স্প্রেড-সংক্রান্ত আগের সব নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের মে মাসে পুরোপুরি বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা কার্যকর হলেও স্প্রেডের কোনো সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বর্তমানে অনেক ব্যাংক গড়ে সাড়ে ৬ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করলেও ১২ শতাংশের বেশি সুদে ঋণ বিতরণ করছে। ফলে গড় স্প্রেড সাড়ে ৫ শতাংশেরও বেশি হয়েছে। এমনকি কয়েকটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ ব্যবধান ৮ থেকে ১০ শতাংশেরও বেশি।

এ পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীল খাতের ঋণের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ছাড়া অন্য সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ ও আমানতের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান সর্বোচ্চ ৪ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৯(২)(চ) ও ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন এ নির্দেশনা কার্যকর হলে ব্যাংকগুলো ঋণের সুদহার নির্ধারণে আরও সংযত হবে। এর ফলে ঋণগ্রহীতাদের অর্থায়ন ব্যয় কমবে এবং উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা করছেন।