শেয়ারবাজার ডেস্কঃ পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান বসানোর উদ্যোগের মধ্যে আলোচনায় আসছে বিভিন্ন নাম।

সেখানে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলামের নাম যেমন আসছে, তেমনি আসছে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী ও সাবেক সচিব ফরিদুল ইসলামের নামও।

তবে গত কয়েকদিন ধরে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান মাসুদ খানকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পাওয়া খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে সরিয়ে বর্তমান বিএনপি সরকার শেষ পর্যন্ত কাকে বিএসইসির দায়িত্ব দেবে, তা জানতে প্রজ্ঞাপন জারি অবধি অপেক্ষা করতে হবে।

পুঁজিবাজারের বড় বিনিয়োগকারী ও স্টেকহোল্ডাররা ডিবিএ সভাপতি সাইফুলকে সমর্থন দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, অবসরপ্রাপ্ত আমলা বা অনভিজ্ঞ শিক্ষাবিদদের তুলনায় তার প্রায়োগিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বেশি, তিনিই বর্তমান সময়ের চাহিদা ভালো বুঝবেন।

আবার হিসাববিদ ও ঝানু করপোরেট পেশাদার মাসুদ খানকেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদের জন্য শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের পট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ১৩ অগাস্ট বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজকে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিএনপিঘনিষ্ঠ সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের ছেলে মাসরুর রিয়াজ আইএফসির সাবেক একজন কর্মকর্তা, যিনি ২০১০-এর দশকে বিনিয়োগ প্রসারে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন।

কিন্তু তাকে বিএসইসির চেয়ারম্যান করার খবরে একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে সখ্যের অভিযোগ তোলা হয় তার বিরুদ্ধে। সালমান এফ রহমানের সঙ্গে তার একটি ছবিও সে সময় ফেইসবুকে ছড়ানো হয়।

পরে বিএসইসির কর্মকর্তারাও মাসরুর রিয়াজের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আপত্তি জানান। সেই পরিস্থিতিতে মাসরুর রিয়াজ বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

পরে সাবেক ব্যাংকার খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বিএসইসির শীর্ষ পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা চলছে। বিএসইসি চেয়ারম্যান পদে বয়সসীমার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়।

শুরুর দিকে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ফরিদুল ইসলামের নাম আলোচনায় থাকলেও পরে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান মাসুদ খান এবং বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকীর নাম অন্যদের ছাপিয়ে যায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মাসুদ খানের নাম চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য ফাইল পাঠানো হয়েছে। অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

এ বিষয়ে মাসুদ খানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুনেছি বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে আমার নামটি আছে। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।”

৩০ এপ্রিল সংসদে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধনী) বিল ২০২৬ পাস হয়, যার মাধ্যমে বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বয়সসীমা বাতিল হয়ে যায়। অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের কমিশনে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই সরকার ওই বয়সসীমা তুলে দিয়েছে।

এর পর ৭০ বছরের বেশি বয়সী এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা মা্সুদ খানের নাম সবার সামনে চলে আসে। গত কয়েক দিনে তার নিয়োগ নিয়ে জল্পনা বেশ জোরালো হয়।

ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি যতোটুকু জেনেছি, মাসুদ খানের নিয়োগের বিষয়টি সরকারের শীর্ষ মহল চূড়ান্ত করেছে। তার ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।”

তবে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি স্পষ্ট করে কোনো নাম বলতে চাননি।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা এই বিষয়টি নিয়ে অনেক বিশ্লেষণ করছি। আমাদের আরও একটু সময় দরকার। ইনশাআল্লাহ, কিছু জানলে আপনাদের আপডেট জানাব।”

এদিকে মাসুদ খানকে গত মাসে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউনিলিভারের পাশাপাশি তিনি বর্তমানে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ এবং ম্যারিকো বাংলাদেশের স্বাধীন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, তিনি কমিশনে যোগ দিতে আগ্রহী নন। এ বিষয়টি কর্তৃপক্ষ হয়ত আগেই জানত। তাই তারা সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

“সরকারের একজন প্রতিনিধি আমাকে বিএসইসির প্রধান হিসেবে যোগ দিতে আগ্রহী কি না জানতে চেয়েছিলেন। আমি অনাগ্রহের কথা জানিয়ে দিয়েছি।”

তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান হিসেবে আমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনেক আগেই আমি বিএসইসি ছেড়েছি। সেখানে ফিরে যাওয়ার আর কোনো আগ্রহ আমার নেই।”

ঢাকাপ্রেস/15.05.2026