সর্বশেষ লাইভ ই-পেপার
সব হারিয়েও কেন মানুষ শেয়ারবাজার ছাড়ে না
খুঁজুন
সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ২২ আষাঢ়, ১৪৩৩
লোড হচ্ছে...
নিউজ লোড হচ্ছে...
ব্রেকিং:
ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় নেতানিয়াহু।টিআইএন ও কর নিয়ে আসছে নতুন সিদ্ধান্ত।ব্যাংকের ঋণ-আমানত সুদের হার বেঁধে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকনতুন পে স্কেলে থাকছে যেসকল সুবিধা।গোল্ডেন হার্ভেস্ট বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর।পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এস এম জাহাঙ্গীর আলম।সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয় বাংলাদেশের।ছিনতাইকারীকে ঝাপটে ধরেছিলেন র‌্যাব সদস্য ইমন, বুকে ছুরকাঘাতে হত্যাসিলেটের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আলাদা নজর রয়েছে: এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীপৃথিবীর ৬টি দেশ যেখানে রাত হয় না – জানলে অবাক হবেন!নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলাবড় মুলধনী কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভূক্তির আওতায় আনা হচ্ছে।সব হারিয়েও কেন মানুষ শেয়ারবাজার ছাড়ে নামুখোমুখি রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান: উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পুরো দেশতিন দিনের রাস্ট্রীয় সফর শেষে ট্রাম্প ফিরলেন আমেরিকা।বিএসইসি‘র চেয়ারম্যান কে হতে যাচ্ছেন ?নতুন আরেকটি ওয়াসা গঠনের সিদ্ধান্ত।ত্রয়োদশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন আসন থেকে কে নির্বাচিত হলেন‘রেপ করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যায়, পরে গলাটিপে হত্যা করি’সিলেটে চলন্ত ট্রেনে আগুন আতঙ্ক!

সব হারিয়েও কেন মানুষ শেয়ারবাজার ছাড়ে না

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
সব হারিয়েও কেন মানুষ শেয়ারবাজার ছাড়ে না

পুঁজিবাজার

শেয়ারবাজার ডেস্কঃ বাংলাদেশের শেয়ারবাজার নিয়ে একটি প্রশ্ন বহু বছর ধরেই ঘুরেফিরে আসে— এত লোকসান, এত হতাশা, এত অভিযোগের পরও মানুষ কেন বারবার এই বাজারে ফিরে আসে? কেন একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী কয়েক লাখ টাকা হারিয়েও আবার নতুন আশায় শেয়ার কেনেন? কেন ধসের পরও ব্রোকারেজ হাউসের মনিটরের সামনে বসে থাকেন হাজারো মানুষ?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু অর্থনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের স্বপ্ন, দ্রুত আর্থিক নিরাপত্তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সমাজের আর্থিক বাস্তবতা।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার গত তিন দশকে একাধিক বড় ধস দেখেছে। ১৯৯৬ সালের ভয়াবহ ধসের স্মৃতি এখনও অনেকে ভুলতে পারেননি। এরপর ২০১০-১১ সালের বুদবুদ সৃষ্টি ও ধস লাখো বিনিয়োগকারীর জীবনকে ওলটপালট করে দেয়। সেই ধসের ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকায়নি। এরপরও নানা সময়ে বাজারে সাময়িক উত্থান এসেছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল আস্থা তৈরি হয়নি।

রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তন হয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় পরিবর্তন এসেছে, সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তদন্ত কমিটি হয়েছে, আইন সংশোধন হয়েছে— কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড় অংশের অভিযোগ একই রয়ে গেছে, ‘বাজারে আমরা হারি, অন্য কেউ লাভ করে।’

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর বাজার

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের অন্যতম বড় বাস্তবতা হলো এটি এখনও মূলত খুচরা বা ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীনির্ভর। বিশ্বের উন্নত বাজারগুলোতে পেনশন ফান্ড, বিমা কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড, বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল বা বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারকে স্থিতিশীল রাখে। কিন্তু বাংলাদেশে সেই কাঠামো এখনও দুর্বল।

ফলে বাজারের বড় অংশ পরিচালিত হয় আবেগ, গুজব এবং স্বল্পমেয়াদি মুনাফার প্রত্যাশায়। অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী তখনই বাজারে প্রবেশ করেন, যখন কোনও শেয়ারের দাম ইতোমধ্যে অনেক বেড়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব ভিডিও, ফেসবুক গ্রুপ, অনানুষ্ঠানিক টিপস বা ব্রোকারেজ হাউসের কথাবার্তার ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত নেন।

অন্যদিকে তুলনামূলক তথ্যসমৃদ্ধ ও অভিজ্ঞ অংশগ্রহণকারীরা ঠিক সেই সময় শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে যান। পরে দরপতনের সময় আবার কম দামে শেয়ার কিনে বাজারে ফেরেন। অর্থাৎ বাজারের একটি বড় অংশে সম্পদের স্থানান্তর ঘটে কম জ্ঞানসম্পন্ন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বেশি প্রস্তুত অংশগ্রহণকারীদের হাতে।

মানুষ কেন বারবার ফিরে আসে?

প্রশ্ন হলো, এত ক্ষতির পরও সাধারণ মানুষ কেন শেয়ারবাজার ছাড়েন না?

এর একটি বড় কারণ হলো, বিকল্প বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা। ব্যাংকে আমানতের সুদ অনেক সময় মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম থাকে। জমি বা ফ্ল্যাট কিনতে বড় মূলধন প্রয়োজন। ব্যবসা শুরু করার ঝুঁকি অনেকের পক্ষে নেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে শেয়ারবাজার এমন একটি জায়গা, যেখানে তুলনামূলক কম অর্থ নিয়েও বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখা যায়।

আরেকটি কারণ মনস্তাত্ত্বিক। মানুষ সাধারণত ক্ষতি মেনে নিতে চান না। একজন বিনিয়োগকারী যখন পাঁচ লাখ টাকা হারান, তখন তিনি প্রায়ই ভাবেন, ‘আরেকটু অপেক্ষা করলে হয়তো বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।’ এই আশা তাকে বাজারে ধরে রাখে। পরে নতুন করে কিছু টাকা বিনিয়োগ করে আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

এছাড়া বাজারে হঠাৎ উত্থানের গল্পও মানুষকে টানে। কোনও পরিচিত ব্যক্তি অল্প সময়ে দ্বিগুণ লাভ করেছেন, এমন গল্প দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে নতুন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ‘সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে’ এমন মানসিকতা তৈরি হয়। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় ‘হার্ড বিহেভিয়ার’ বা দলবদ্ধ আচরণ।

জেড ক্যাটাগরির জম্বি কোম্পানি

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো দুর্বল ও অকার্যকর কোম্পানির উপস্থিতি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে বর্তমানে ৫০টিরও বেশি কোম্পানি বছরের পর বছর পড়ে আছে। এসব কোম্পানির অনেকেই নিয়মিত লভ্যাংশ দেয় না, সময়মতো বার্ষিক সাধারণ সভা করে না, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে না কিংবা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ অবস্থায় পরিচালনা করে।

তারপরও এসব কোম্পানির শেয়ার বাজারে লেনদেন হয়। কখনও কখনও এসব শেয়ার অস্বাভাবিকভাবে দরবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকাতেও উঠে আসে।

বিশ্লেষকদের ভাষায়, এগুলো অনেকটা ‘জম্বি কোম্পানি’, যাদের প্রকৃত অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল, কিন্তু বাজারে এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে। কম ফ্রি-ফ্লোট ও কম মূলধনি হওয়ায় এসব শেয়ার সহজে কারসাজির শিকার হয়। দাম দ্রুত বাড়িয়ে পরে বিক্রি করে দেওয়ার ‘পাম্প অ্যান্ড ডাম্প’ কৌশলের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়েন।

অর্থনীতির চাপও বাড়াচ্ছে সংকট

শুধু বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা নয়, সামষ্টিক অর্থনীতির চাপও শেয়ারবাজারকে দুর্বল করে তুলছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ডলার সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, আমদানি সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব উৎপাদন ও সেবা খাতের কোম্পানিগুলোর আয় কমিয়ে দিয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে তালিকাভুক্ত উৎপাদন ও সেবা খাতের প্রায় ৭৫ শতাংশ কোম্পানি হয় লোকসান করেছে, নয়তো আগের তুলনায় কম মুনাফা করেছে। অনেক কোম্পানি আবার আর্থিক প্রতিবেদনই প্রকাশ করেনি।

যেসব কোম্পানি নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না, তাদের অনেকের ব্যবসা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সময়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোকে বাজারে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।

হতাশা বাড়ছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে

মতিঝিলের ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে এখন প্রায়ই এক ধরনের নিস্তব্ধতা দেখা যায়। বড় মনিটরে সূচকের লাল-সবুজ ওঠানামা চললেও আগের মতো উৎসাহ নেই অনেকের মধ্যে।

একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বলেন, সাড়ে আট লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। এখন সেটা তিন লাখ টাকার কাছাকাছি নেমে এসেছে। সরকার পরিবর্তনের পর ভেবেছিলাম বাজার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু এখন আবার টানা দরপতন চলছে। মনে হয়, এই ক্ষতি আর কোনও দিন কাটিয়ে উঠতে পারবো না।

তার এই অভিজ্ঞতা একা নয়। বাজারে লাখো বিনিয়োগকারীর হতাশা এখন প্রায় একই রকম।

তবে কি শেয়ারবাজার শুধু ক্ষতির জায়গা

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সমস্যাটা শেয়ারবাজারের ধারণায় নয়; সমস্যাটা বাজারের সুশাসন, কাঠামো ও বিনিয়োগ সংস্কৃতিতে।

একটি কার্যকর পুঁজিবাজার আসলে অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকনির্ভর অর্থনীতিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত ঋণনির্ভর হয়ে পড়ে। এতে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের চাপ বাড়ে। বিপরীতে শক্তিশালী পুঁজিবাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন জোগান দিতে পারে।

উন্নত দেশগুলো বহু আগেই এই ভারসাম্য তৈরি করেছে। প্রতিবেশী ভারতও প্রযুক্তিনির্ভরতা, তথ্যপ্রকাশ, মিউচুয়াল ফান্ড সংস্কৃতি ও বিনিয়োগ শিক্ষার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। সেখানে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (এসআইপি) দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে।

বাংলাদেশে কী করা জরুরি

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কয়েকটি বিষয় জরুরি হয়ে পড়েছে।

১. দুর্বল কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

বছরের পর বছর লোকসান করা, আর্থিক প্রতিবেদন না দেওয়া বা কার্যক্রম বন্ধ কোম্পানিগুলোকে পুনর্গঠন, একীভূতকরণ বা ডিলিস্টিংয়ের আওতায় আনতে হবে।

২. বাজার নজরদারি জোরদার

কারসাজি শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত জরিমানা, লেনদেন নিষেধাজ্ঞা ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. ব্রোকারেজ হাউসের জবাবদিহি

গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা, স্বচ্ছতা ও তথ্যপ্রকাশ নিশ্চিত না হলে বাজারে আস্থা ফিরবে না। সাময়িক মুনাফার বদলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী ধরে রাখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

৪. মিউচুয়াল ফান্ড খাতের সংস্কার

মাসিক পারফরম্যান্স, পোর্টফোলিও, ফি, এনএভি ও ঝুঁকি– তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রকাশ করতে হবে। পেশাদার সম্পদ ব্যবস্থাপনা ছাড়া সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে না।

৫. বিনিয়োগ শিক্ষা

সবচেয়ে বড় ঘাটতি এখানেই। এখনও অনেক মানুষ শেয়ারবাজারকে ‘দ্রুত ধনী হওয়ার জায়গা’ মনে করেন। অথচ সফল বিনিয়োগ মূলত দীর্ঘমেয়াদি, গবেষণানির্ভর এবং ধৈর্যের বিষয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুল-কলেজ পর্যায় থেকেই আর্থিক শিক্ষা বাড়ানো দরকার। বিভাগীয় শহরগুলোতে বিনিয়োগ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা উচিত।

৬. নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম

কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, লভ্যাংশ ইতিহাস, ঋণের পরিমাণ, আয়ের প্রবণতা ও খাতভিত্তিক তুলনা সহজভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে গুজবনির্ভর বিনিয়োগ কমবে।

ঝুঁকির আড়ালেও সম্ভাবনা

শেয়ারবাজারে ঝুঁকি থাকবে, এটাই বাস্তবতা। কিন্তু ঝুঁকি আর অনিয়ম এক বিষয় নয়। একটি সুস্থ বাজারে বিনিয়োগকারী জানবেন, তিনি লাভও করতে পারেন, ক্ষতিও হতে পারে। কিন্তু তিনি অন্তত বিশ্বাস করবেন, বাজারটি ন্যায্যভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের মানুষ এখনও শেয়ারবাজার ছেড়ে যাননি, এটাই বড় বার্তা। এর অর্থ, মানুষের ভেতরে এখনও আশা আছে। তারা এখনও বিশ্বাস করতে চান, একদিন এই বাজার স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল হবে।

কারণ শেষ পর্যন্ত শেয়ারবাজার শুধু কিছু সংখ্যার খেলা নয়। এটি মানুষের ভবিষ্যৎ, সঞ্চয়, স্বপ্ন এবং দেশের অর্থনীতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। আর সেই প্রতিষ্ঠানকে আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনা এখন শুধু বিনিয়োগকারীদের নয়, পুরো অর্থনীতির স্বার্থেই জরুরি।

ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় নেতানিয়াহু।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় নেতানিয়াহু।

ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় নেতানিয়াহু।

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসরাইলের রাজনীতিতে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবার তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনই নির্ধারণ করতে পারে চার দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ।

দুর্নীতির একাধিক মামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে সমালোচনার কারণে নেতানিয়াহু এখন দেশ-বিদেশে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অস্তিত্বেরও বড় পরীক্ষা।

নির্বাচনের আগে তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও জটিল করে তুলেছে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত। জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। এর পরপরই তেহরান ইসরাইল, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

একই সময়ে উত্তরের সীমান্তে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে পূর্ণমাত্রার সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে ইসরাইল। ফলে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ পরিচালনার চাপে নেতানিয়াহুর সরকার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু এক ধরনের উভয়সংকটে পড়েছেন। একদিকে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের জন্য মার্কিন প্রশাসন তার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে ইসরাইলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক ইরান এবং তার আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ জনমতের এই বিপরীতমুখী অবস্থান তার জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদেশনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার আগে ও পরে গোয়েন্দা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠনে তার অস্বীকৃতি জনগণের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইসরাইলে অনেকের মতে, ৭ অক্টোবরের হামলা প্রতিরোধে সরকারের ব্যর্থতার দায় এখনো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। এর সঙ্গে দুর্নীতির মামলাগুলো যুক্ত হওয়ায় নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি আরও চাপে পড়েছে।

সব মিলিয়ে, আগামী অক্টোবরের নির্বাচন কেবল ইসরাইলের পরবর্তী সরকার নির্ধারণ করবে না; একই সঙ্গে এটি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের ভবিষ্যৎও নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

টিআইএন ও কর নিয়ে আসছে নতুন সিদ্ধান্ত।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:২৮ অপরাহ্ণ
টিআইএন ও কর নিয়ে আসছে নতুন সিদ্ধান্ত।

টিআইএন ও কর নিয়ে আসছে নতুন সিদ্ধান্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সীমিত আয়ের মানুষের করের চাপ কমাতে আগামী দুই অর্থবছর (২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮) ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব থেকেও সরে আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অর্থ বিল-২০২৬ সংসদে পাস হওয়ার আগেই এসব পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে অর্থ বিল উত্থাপন করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল। বর্তমানে বছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত।ওই কর্মকর্তা জানান, ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটি বাদ দেওয়া হতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে এ বিধান রাখা হলেও বিভিন্ন মহল এর বিরোধিতা করে। তাদের মতে, এ ধরনের বাধ্যবাধকতা আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং নতুন গ্রাহকদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে (বিটুবি) লেনদেনে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের প্রস্তাব অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এ ছাড়া সোনা বিক্রির ওপর মূলধনী লাভ কর (ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স) বর্তমান প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

প্রস্তাবিত অর্থ বিলে করদাতার রিটার্নে ঘোষিত সোনা, রুপা, গহনা, মূল্যবান পাথর, হীরা, মুদ্রা, ডিজিটাল মুদ্রা, শিল্পকর্ম, প্রাচীন নিদর্শন ও ক্লাব সদস্যপদ বিক্রি বা হস্তান্তর থেকে অর্জিত লাভের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।

এ ছাড়া ট্রেজারি বিল, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ডিবেঞ্চার, সুকুক, শরিয়াহভিত্তিক সিকিউরিটিজ এবং শেয়ার ও স্টক বিক্রির মূলধনী লাভের ওপরও ১৫ শতাংশ করের প্রস্তাব রয়েছে।

স্টক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম

আরেকটি সম্ভাব্য পরিবর্তন হলো, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং শুধু আইসিটি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে।তবে আবাসন খাতের ডেভেলপারদের কর ব্যবস্থায় আপাতত কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ব্যাংকের ঋণ-আমানত সুদের হার বেঁধে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ
ব্যাংকের ঋণ-আমানত সুদের হার বেঁধে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ব্যাংকের ঋণ-আমানত সুদের হার বেঁধে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকগুলো যাতে আমানতের সুদের তুলনায় ঋণের সুদহার অতিরিক্ত বাড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যে ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান বা ইন্টারমিডিয়েশন স্প্রেড সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ এ সীমার আওতার বাইরে থাকবে।

এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার সোমবার (২৯ জুন) জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি)। সার্কুলারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ব্যাংক আমানতের সুদহার তুলনামূলক কম বাড়ালেও ঋণের সুদহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান বা স্প্রেড অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প ও উৎপাদন খাতের ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রেফারেন্স রেট ও মার্জিনভিত্তিক ঋণের সুদহার ব্যবস্থা (SMART) চালুর সময় স্প্রেড-সংক্রান্ত আগের সব নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের মে মাসে পুরোপুরি বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা কার্যকর হলেও স্প্রেডের কোনো সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বর্তমানে অনেক ব্যাংক গড়ে সাড়ে ৬ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করলেও ১২ শতাংশের বেশি সুদে ঋণ বিতরণ করছে। ফলে গড় স্প্রেড সাড়ে ৫ শতাংশেরও বেশি হয়েছে। এমনকি কয়েকটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ ব্যবধান ৮ থেকে ১০ শতাংশেরও বেশি।

এ পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীল খাতের ঋণের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ছাড়া অন্য সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ ও আমানতের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান সর্বোচ্চ ৪ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৯(২)(চ) ও ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন এ নির্দেশনা কার্যকর হলে ব্যাংকগুলো ঋণের সুদহার নির্ধারণে আরও সংযত হবে। এর ফলে ঋণগ্রহীতাদের অর্থায়ন ব্যয় কমবে এবং উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা করছেন।