শেয়অরবাজার ডেস্কঃ বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে গত মার্চ মাসে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার থেকে বড় অংকের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এই সময়ে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্র্যাক ব্যাংক এবং গ্রামীণফোনের মতো শক্তিশালী মৌলভিত্তির (ব্লু-চিপ) কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রির ধুম পড়েছিল, যা বাজারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পুরো মাসে তাদের মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৭২ কোটি টাকা, যা ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ৫৯ শতাংশ কম। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই লেনদেনের মধ্যে বিক্রির পরিমাণ ছিল ২১৫ কোটি টাকা, যেখানে ক্রয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বড় অংকের বিদেশি ক্যাশ বা নগদ অর্থ বাজার থেকে বেরিয়ে গেছে।
সবচেয়ে বেশি বিক্রির চাপে ছিল অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ; যেখান থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৭৬ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এর ফলে কোম্পানিটিতে বিদেশিদের শেয়ার ধারণের হার ৩০.২৬ শতাংশ থেকে কমে ২৭.৬২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর পরেই রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, যেখান থেকে ৩৪ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া স্কয়ার ফার্মা থেকে ৩২ কোটি এবং গ্রামীণফোন থেকে ২৯ কোটি টাকার শেয়ার ছেড়ে দিয়েছেন তারা।
অন্যান্য বড় কোম্পানির মধ্যে রেনাটা লিমিটেড থেকে ১১.৫০ কোটি, সিটি ব্যাংক থেকে ১০ কোটি এবং বিএটি বাংলাদেশ থেকে ৪.৬০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে। এছাড়া বিএসআরএম, লাফার্জহোলসিম, মারিকো ও আইডিএলসি ফিন্যান্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও বিদেশিরা তাদের অবস্থান সংকুচিত করেছেন। বিপরীতে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স ও রিং শাইন টেক্সটাইলের মতো কিছু ছোট কোম্পানিতে সামান্য বিনিয়োগ বেড়েছে।
Dhakapresbd Trusted Online News Portal