Top Header
Author Dhaka Press BD
তারিখ: ১৪ মে ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ

অরিয়ন ফার্মার বিনিয়োগকারীদের জন্য দুঃসংবাদ।

News Image

নিজস্ব প্রবতবেদকঃ ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেডের বিনিয়োগকারীদের অর্থ তছরুপের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেউলিয়া, খেলাপি ঋণগ্রস্ত ও অধিকাংশ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকে কোটি টাকার অধিক ফিক্সড ডিপোজিট করেছে ওরিয়ন ফার্মা। এই অর্থ ওরিয়ন ফার্মা আদৌ ফেরত পাবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কাপ্রকাশ করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানাগেছে।

জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার খেলাপি ঋণে জর্জরিত সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকসহ পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে। অধিকাংশ আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকগুলোকে একীভূত করা হয়।

তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, বিদায়ী বছরে (৩০ জুন ২০২৫) সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ওরিয়ন ফার্মার ফিক্সড ডিপোজিট ছিল এক কোটি ১২ লাখ ২০ হাজার ৬১০ টাকা। আর ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে তা এসে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৪০ টাকা। নয় মাসের ব্যবধানে খেলাপিগ্রস্ত সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ওরিয়ন ফার্মার ফিক্সড ডিপোজিটের পরিমাণ বেড়েছে ছয় লাখ ৮৪ হাজার ২৩০ টাকা বা ৬ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, বিদায়ী বছরে ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা করেছে ওরিয়ন ফার্মা। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানির লোকসান হয়েছে ২২ কোটি ১৩ লাখ ৯৪ হাজার ৩৮৬ টাকা। আর এর আগের বছরের একই সময় যা ছিল ৪ কোটি ১৩ লাখ ৭১হাজার ৬১০ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির লোকসান বেড়েছে ১৮ কোটি ২২ হাজার ৭৭৬ টাকা বা ৪৩৫ শতাংশ।

এদিকে ওরিয়ন ফার্মার ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে দীর্ঘমেয়াদী ব্যাংক ঋণ বা লোনের পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৬৫৮ কোটি ৩৩ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ব্যবসায়িকভাবে তলানীতে যাওয়া ওরিয়ন ফার্মা তার এই বিশাল ব্যাংক ঋণ আদৌ পরিশোধ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্টদের মনে।

কোম্পানিসূত্রে জানা গেছে, গত অর্থ বছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই,২৫-মার্চ,২৬) কোম্পানির Orion Pharma is mired in debt and irregularities. According to company sources, the revenue for the first nine months of the previous fiscal year (July 25-March 26) was 3.35 billion Taka. In contrast, the revenue for the first nine months of the current fiscal year has decreased to 2.28 billion Taka. This represents a decline of 1.07 billion Taka, or 32 percent, over the course of one year.  রেভেনিউ বা বিক্রয় রাজস্বের পরিমাণ ছিল ৩৩৫ কোটি ২০ লাখ ১০হাজার ৩৮৭ টাকা। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে তা এসে দাঁড়িয়েছে ২২৮ কোটি ১২ লাখ ৮০ হাজার ৬১৮ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে বিক্রয় রাজস্ব কমেছে ১০৭ কোটি ৭ লাখ ২৯ হাজার ৭৬৯ টাকা বা ৩২ শতাংশ।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, গত অর্থ বছরের প্রথম নয় মাসে ৮১ কোটি ৭৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৭৯ টাকা পাওয়ার জেনারেশন থেকে বিক্রয় রাজস্ব আসলেও চলতি অর্থ বছরের প্রথম নয় মাসে এই খাত থেকে কোনো বিক্রয় রাজস্ব আসেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোম্পানির ব্যবসা আরও তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে

এদিকে, বিদায়ী বছরে কোম্পানি ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা করেছে। চলতি অর্থ বছরেও এখন পর্যন্ত কোম্পানি লোকসান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদায়ী বছরের ন্যায় চলতি অর্থ বছরেও (২০২৫-২৬) ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা আসতে পারে কোম্পানির পক্ষ থেকে, এমনটাই ধারণা করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

এসবব্যাপারে জানতে ওরিয়ন ফার্মার কোম্পানি সচিব মো. ফেরদৌস জামানকে একাধিকবার ফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইিস) মুখপাত্র আবুল কালাম শেয়ারবাজার নিউজকে বলেন, ওরিয়ন ফার্মার সামগ্রিক বিষয় খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধন ২৩৪ কোটি টাকা, যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ৪৭ শতাংশ, উদ্যোক্তা পরিচালকদের মালিকানা রয়েছে ৩১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ২০ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে দশমিক ১২ শতাংশ।

জামিল/

Watermark